ব্রুজেস - একটি সুন্দর শহর!

Off the train | 24th February, 2021

খুব সুন্দর কিছুর কাছাকাছি যাওয়ার একটা ভয় থাকে। স্বপ্নভঙ্গের ভয়। অনেকদিন না গিয়ে ছিলাম সুন্দর এই শহরে।
শেষ পর্যন্ত প্রতিটি ছবির গল্পের জন্য যেতে জন্য যেতে হলো ব্রুজেস এ।

অদ্ভুত গল্পের লেক

অদ্ভুত গল্পের লেক। মীনা নামের এক মেয়ের বাবা, স্ট্রমবর্গ নামে এক যুবকের সাথে বিয়ে দিতে রাজি হয় নাই। মীনা বাসা থেকে পালিয়ে গেলো। বনের মধ্যে দিয়ে, লেকের উপর দিয়ে পালাতে পালাতে ক্লান্ত হয়ে মারা গেলো। স্ট্রমবর্গ দুঃখে ভেসে গেলো। তাঁদের ভালোবাসায় পবিত্র হয়ে গেলো এই লেক।

এখন বলা হয়, এই লেকের উপরে দিয়ে হেঁটে কেউ যদি কাউকে চুমু খায়, তাইলে সে ভালোবাসা অবশ্যই পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। করোনার এই সময়ে মানুষ মাস্ক পড়ে লাইন দিয়ে আছে ব্রীজের উপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার জন্য। মাস্ক পড়ে কী করবে, কে জানে !

মাঝে মাঝে রাতের গভীর অমাবস্যায় লেকের ধারের এঁদেরকে দৌড়াদৌড়ি করতে এখনো নাকি দেখা যায়।

অগাস্টিয়ানিয়ান নামে এক সন্ন্যাসী একবার তাঁর চার্চের এক নানকে খুন করে ফেললো। খুন করে আরাম করে বীয়ারে চুমুক দিচ্ছে রাতে বেলা। হুট করে দেখলো, সেই নান হালকা করে হাত নাড়ছে। অগাস্টিয়ানিনান এর গলায় বীয়ার আটকে গেলো। হাতুড়ি নিয়ে নান এর ভুতকে মারা জন্য তেড়ে গেলো।

নান সাদা ড্রেস পরে শহরের ব্রীজ থেকে ব্রীজে উড়াউড়ি করতে লাগলো। মাঝে মাঝে রাতের গভীর অমাবস্যায় লেকের ধারের এঁদেরকে দৌড়াদৌড়ি করতে এখনো নাকি দেখা যায়।

শহর ব্রুজেস লেইস ফিতার লেইস এর জন্য বিখ্যাত। আমাদের জেমস এই শহরে বসেই এই গান প্রথম গেয়েছিলেন। ব্রুজেস শহরের কেউ বাংলা বুঝে না দেখে, হতাশ হয়ে তিনি বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলেন।

বেলজিয়ামের যে কেউ চকলেটের দোকানে ঢুকে এইভাবে গালে হাত দেয়- বেছে তো নিবো, কিন্তু কোনটা নিবো?

জামাই ভিতরে ঢুকেছে চকলেট কিনতে। বউ গার্ড দিচ্ছে বাইরে। পকেটে পিস্তল। পছন্দের চকলেট কেউ যেনো হাইজ্যাক করে নিয়ে না যেতে পারে।

বিখ্যাত আর্টিস্ট দালী’র সত্যিকারে আঁকা ছবি। এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড সিরিজ। থ মেরে আছি তাঁর পাগলামি দেখে !

বয়ফ্রেন্ড ওয়াফেল এর দোকানে কাজ করছে। দশ মিনিট পর কাজ শেষ হবে। দুজনের মিলে ওয়াফেলের মতো মিষ্টি কথাটথা বলবে। বাইরে অপেক্ষা করছে প্রেয়সী।

বয়ফ্রেন্ড আঙ্গুল দিয়ে বুঝাতে চাচ্ছে- আজকে যেই ওয়াফেলটা বান্ধবীর জন্য বানিয়েছি, সেইটা সেরা হইসে।

শহরের পার্কের মুখে ছোট একটা কাঠের ঘর আছে। এইখানে যে কেউ বই রেখে যেতে পারে। পছন্দের বই নিয়ে যেতে পারে।

প্লাস্টিক দিয়ে একটা ডলফিন বানানো হয়েছে। লেকে প্লাস্টিক ফেলে দূষণ না করার জন্য । পানিকে মেরে না ফেলার জন্য।

ব্রুজের এর টং দোকান। অত্যন্ত লজ্জাকর দোকান। যে দোকানে চা নাই- সেটি আবার কিসের টং দোকান !

সবচেয়ে সুন্দর কোন ছেলেটার সাথে এই সামারে বাইরে যাবে- সেই হিসাবে লেক টেবিল আলোচনা।

হাঁটাহাঁটিই জীবন এইখানে। একফাঁকে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে নেয়া- এক বোতল ওয়াইন কী কিনে নিবো !

পিসার হেলানো টাওয়ার না, এই বেল ফ্রাই টাওয়ারও নাকি কিছুটা হেলানো। ভূতের কারনে। টাওয়ারে হেলান দিয়ে ভূত ঘুমায়-ওই। রাতে নাকি তাঁরা এই টাওয়ারে হেলান দিয়ে পা ছড়িয়ে ঘুমায়। তাই একটু হেলে গেছে।

বিদায় নেয়ার সময়। মানুষ থাকুক আর না থাকুক- কুকুর থাকবেই। অদ্ভুত এই শহর !

Shuvro Chowdhury

Brussels, Belgium

Similar contents

গহনার বাক্স

Diary notes

ওয়াইন সমাচার

Diary notes

”ব্রাদার, আমি মনে হয় জালে আটকে
গেছি।”

Diary notes

এ্যাই, শহর বের্ণ ! আসো প্রেম করি।
জ্বলে যাই

Off the train

We have tomorrows for reason. Shuvro wants to be your reason in growth and happiness. He is a Europe based health futurist, content writer with a focus in business entrepreneurship, art and culture.