এ্যাই, শহর বের্ণ ! আসো প্রেম করি। জ্বলে যাই

Off the train | 24th February, 2021

বের্ন এর পার্লামেন্ট ভবনের চত্বরে বসে আছি। সুইজারল্যান্ডের রাজধানী। নিচ দিয়ে অবিশ্বাস্য স্বচ্ছ নীল পানির লেক বয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে, দূরে কোনো বাসায় ছোট বাচ্চা আঁকাআঁকি করছিলো। ভুল করে নীল রঙের বোতল ভেঙ্গে পানিতে পড়ে গেছে। পানি হয়ে গেছে নীল।
আবার এসেছি নতুন একটা শহরে। হাত পেতে আছি ভিক্ষুকের মতো। দেখি, কী দেয় এই নতুন শহর !

দেখাদেখির বিঘ্ন ঘটাচ্ছে রিদুয়ান। অবিশ্বাস্য প্রতিভা নিয়ে রটারডামের ইউনিভার্সিটিতে পড়ছে ইলেক্ট্রনিক্সে। তাঁর আপাতত কাজ হচ্ছে আমার ভিক্ষায় বিঘ্ন ঘটানো। সে শুরু করছে-
“ভাই, সুইচ দের কারবার দেখছেন। লেকে মুতলেও তো কিছুটা রঙ নষ্ট হওয়ার কথা”
আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। শিক্ষিত একটা ছেলের কী ধরনের কথাবার্তা।
” উচ্চারণটা ” সুইচ” না, রিদুয়ান- “সুইস”। ইলেক্ট্রনিক্সের ছাত্র বলে সুইসকে “সুইচ” বলতে হবে না।”
সে কিছুক্ষণ আমার দিকে ব্যথিতভাবে তাকায়ে থেকে বললো- “ভাই, চলেন। বিয়ের গার্ডেনে যাই”
Bear Gardenকে একটা শিক্ষিত মার্জিত ছেলে “বিয়ের” গার্ডেন বলতে পারে- এইটা আমি নিজে না শুনলে বিশ্বাস করতাম না।

পার্লামেন্ট এর পাশেই ভাল্লুক বাগান। Bear garden. পার্লামেন্টে গম্ভীর লোকজন বসে আছে। পাশের বাগানে গম্ভীর হয়ে ভল্লুক বসে আছে। কী অপূর্ব একটা শহর।
সারা শহর ঘুরাঘুরি শেষে ক্যাফেতে বসেছি। ছিমছাম কাঠের ক্যাফে।
রিদুয়ান সুইস চীজ কেকে কামড় দিতে দিতে লিস্ট চেক করছে। সব কিছু ঘুরা হয়ে গেছে। প্রবল তৃপ্তি নিয়ে সে বললো- ” আমি আমি তো এই শহরের প্রেমে পড়ে গেছি। আপনার অবস্থা কী ?”
আমি ক্যাফের কাস্টমার দেখছি। দেখতে দেখতে উত্তর দিলাম- ” এই শহরটা এলাকার সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েটার মতো। যার সিজিপিএ সেরা। যার বয়ফ্রেন্ড সবচেয়ে হ্যান্ডসাম। খুব সুন্দর চুল। তবুও কেনো জানি প্রেমে পড়া হয় না। সবকিছুই নিখুঁত, এই জন্য হয়তো। ছোট্ট একটা পালস মিসিং।
ভিক্ষা করে চলেছি। যদি এই শহর কিছু দেয় আমাকে। এখনো কিছু দেয়নি আমাকে প্রেমে পরার মতো”

ইলেক্ট্রনিক্সের ছেলে চোখ পিটপিট করছে আমার দিকে তাকিয়ে।
আমি তাকিয়ে আছি কাস্টমারের দিকে। স্নিগ্ধ সুন্দর তরুণী। দুই ইউরো দিয়ে একটা চকলেট কিনেছে। কাউন্টারে উবু হয়ে ফিসফিস করে হেসে বললো-
“আমি আসলে তোমাদের টয়লেট ইউস করতে এসেছি। আমি কী যেতে পারি ?”
কাউন্টার এর ছেলেটা দারুণ হেসে উত্তর দিলো- “অতি অবশ্যই তুমি যেতে পারো। চকলেট না কিনেও তুমি যেতে পারো, হা হা হা”
মেয়েটা চুল গুছাতে গুছাতে উত্তর দিলো- “অবশ্যই আমি কিছু না কিনে তোমাদের টয়লেটে যাবো না।”
এইটা বলে দুইজনেই হা হা হা করে হাসতে লাগলো।
ঠিক এই মুহুর্তেই আমার মনে হলো- আমি ভিক্ষা পেয়েছি। এই শহর এই সুন্দর গল্পটা আমাকে দিয়েছে। এইবার নিশ্চিন্তে বলা যায়- “এ্যাই, শহর বের্ণ ! আসো প্রেম করি। জ্বলে যাই”

Shuvro Chowdhury

Brussels, Belgium

Similar contents

গহনার বাক্স

Diary notes

ওয়াইন সমাচার

Diary notes

”ব্রাদার, আমি মনে হয় জালে আটকে
গেছি।”

Diary notes

এ্যাই, শহর বের্ণ ! আসো প্রেম করি।
জ্বলে যাই

Off the train

We have tomorrows for reason. Shuvro wants to be your reason in growth and happiness. He is a Europe based health futurist, content writer with a focus in business entrepreneurship, art and culture.