”ব্রাদার, আমি মনে হয় জালে আটকে গেছি।”

Off the train | 24th February, 2021

সব মানুষের বডি পার্টস জন্মের সাথে সাথেই পৃথিবীতে একসাথে চলে আসে বলে জানতাম। রাশেদ ভাই ব্যতিক্রম। আমরা ধারণা, ওনার বডি পৃথিবীতে আসার বছর পাঁচেক পর তাঁর ব্রেইন এসেছে। ব্রেইন অন্য কোথাও রয়ে গিয়েছিলো। বছর পাঁচেক পর রাশেদ ভাই এর শরীরে এসে যোগ দিয়েছে।

তিনি বিকালে আমাদেরকে জোর করে নিয়ে গেলেন এক রুটির দোকানে। অদ্ভুত সুন্দরী মেয়ে রুটি বিক্রি করছে। তিনি গলা খাকরি দিয়ে বললেন-” স্টেফানি, একটা রুটি দাও দেখি”
স্টেফানি অবাক হয়ে কিছুক্ষণ রাশেদ ভাই এর দিকে তাকিয়ে থাকলো। তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে দুই পাউন্ডের ঢাউস সাইজ এক রুটি প্যাকেট করে দিলো।

রাশেদ ভাই সেই রুটি বুকে জড়ায়া ঘরে চলে আসলেন। আমরা সাথে আছি। ঘরে ঢুকে আমরা আমাদের চোখকে বিশ্বাস করতে পারলাম না। সারা ঘর জুড়ে পাউরুটি আর পাউরুটি।
আমরা অবাক হয়ে জিজ্ঞাস করলাম- “রাশেদ ভাই, কী কাহিনী?”
তিনি তরল দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন- ” ব্রাদার, আর বলবেন না। প্রতিদিন দুই পাউন্ডের কেক কিনে আনি শুধু এই মেয়েরে একবার দেখার জন্য। আমি মনে হয় জালে আটকে গেছি”

আমরা তীব্র উল্লাস প্রকাশ করলাম। আমাদের সাথে একজন লাফ দিয়ে বিছানার উপর পড়লো। ঘরময় দুই পাউন্ডের রুটি ছড়ানো। বিছানার উপরেও রুটি। ব্যথা পেলো না।
আমরা একসাথে চিৎকার দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম-” রাশেদ ভাই, কেনো এই মেয়ের প্রেমে পড়লেন। সে কী ভালো রুটি বানায় ?”
রাশেদ ভাই নরম আলোয় মাখামাখা কন্ঠে বললেন-” এই মেয়ের শখ দেখে প্রেমে পড়েছি। এতো অসাধারণ শখ এই পৃথিবীর কোনো মানুষের দেখি নাই”
আমি চিকন গলায় বললাম- “কী শখ ? তিন বেলা রুটি খায়? এরে নিয়ে তো দেশে গিয়ে বিপদে পড়বেন”
রাশেদ ভাই চোখ দিয়ে আমাকে ভষ্ম করে দিতে চাইলেন। কিন্তু বুক ভর্তি প্রেম নিয়ে আটকে গেলেন।
আগের চেয়েও তরল গলায় বললেন- ” মেয়ের শখ, শহরের সুয়ারেজ লাইনের ঢাকনার ছবি তোলা”

আমাদের চোখ কোটর থেকে বের হয়ে আসতে চাইলো। তিনি আমাদের বিষ্মিত দৃষ্টি দেখে একটা এলবাম নিয়ে আসলেন। আমরা বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে দেখলাম- শহরের বিভিন্ন রাস্তার সুয়ারেজ লাইনের ঢাকনার ছবি। কোনোটা রঙ করা, কোনোটা রঙ ছাড়া।
রাশেদ ভাই হাসিমুখে বললেন- ” আমরা গত দুই সপ্তাহে রাস্তায় হেঁটে হেঁটে সুয়ারেজ লাইনের ঢাকনার ছবি তুলেছি। এঁরা সুয়ারেজের ঢাকনাও এতো আর্টিস্টিক করে বানায় ! বলেন ব্রাদার, এই মেয়েকে ছাড়া জীবন চলবে ?”
আমরা একসাথে চিৎকার দিয়ে বললাম- ” অবশ্যই জীবন চলবে না”

আমি ঘরময় ছড়ায়া ছিটিয়ে থাকা রুটির দিকে তাকিয়ে ভাবতে থাকলাম- রাশেদ ভাইয়ের ব্রেইন আসলে ওনার বডির সাথে আসেই নাই। অন্য কোথাও রয়ে গেছে। উনি শুধু হার্ট দিয়ে আপাতত কাজ চালায়ে নিচ্ছে !

শুধু হার্ট নিয়ে হাঁটাহাঁটি করে সবাইকে চমকে দিতে কয়জনই বা পারে !

Shuvro Chowdhury

Brussels, Belgium

Similar contents

গহনার বাক্স

Diary notes

ওয়াইন সমাচার

Diary notes

”ব্রাদার, আমি মনে হয় জালে আটকে
গেছি।”

Diary notes

এ্যাই, শহর বের্ণ ! আসো প্রেম করি।
জ্বলে যাই

Off the train

We have tomorrows for reason. Shuvro wants to be your reason in growth and happiness. He is a Europe based health futurist, content writer with a focus in business entrepreneurship, art and culture.

    Leave a Reply